Tuesday, October 10, 2017

চার্লস বুকাওস্কি-কে ভালোবেসে, ঘেন্না করে

লিন্ডা কিং মূলত একজন ভাস্কর। তার করা বুকাওস্কির হেড বাস্টটির ফটোগ্রাফ আপনারা দেখে থাকবেন যা পৃথিবী বিখ্যাত। চার্লস বুকাওস্কির সাথে একসাথে কবিতার বইও বেরিয়েছে তার।

চার্লস বুকাওস্কিকে নিয়ে অনেক বই আছে কিন্তু কোনোটাই এ বইয়ের মতো নয়। এটা যেন আয়নার অন্য পাশ দিয়ে দেখা। ওদের পাঁচ বছরের প্রেমের ঝোড়ো জীবনের জীবন্ত দলিল। তাই অনেক সময়ই অপরিমার্জিত, কিছু না লুকোবার চেষ্টা করে বলে যাওয়া সেই আবেগের দিনগুলোর কথা, সেই গভীর প্রেম আর প্রেমহীনতার কথা, যা সরাসরি ধাক্কা মারে আমাদের হৃদয়ে কোথাও।






তৃতীয় ভাগ

বুকাওস্কির আসার কথা সকাল ১১টায়, প্রথমবার ভাস্কর্যর জন্য বসতে। ও যখন আমার অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের গেট দিয়ে ঢুকছে, আমি তখন বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে।
‘হাই, আমি ওইখানে থাকি, ওই ফ্ল্যাটটায়। তুমি দেখছি একটা নতুন জামা পরেছ’।
লজ্জায় ওর মুখটা লাল হয়ে গেল। ও আমার পিছন পিছন এলো আমার ফ্ল্যাটে।
‘এই বাচ্চা মেয়েটা আমার, কারিসাওর তিন বছর বয়স। কারিসা, ইনি হলেন চার্লস বুকাওস্কি। আমি ওনার মুখের একটা ভাস্কর্য তৈরি করব’। কারিসা অবাক চোখে বুকাওস্কির দিকে তাকিয়ে বলে, ‘তোমার নাকটা তো লাল’। ও আমাকে দেখেছে মাটি জড়ো করে মুখটা তৈরি করার সময় আমার তোলা ছবিগুলোর দিকে বার বার তাকাতে। ‘তোমার মুখটা কি এবার মাটির হবে’?
বুকাওস্কি হাসে এসব শুনে।
‘তোমার কি একটা বিয়ার চাই? তোমার জন্যই একটা ছ প্যাকের বিয়ার আমি কিনে রেখেছি’।  
‘নিশ্চয়ই’। বিয়ার হাতে ওকে অনেকটা রিল্যাক্সড লাগে।
ঠিক তখনই জেরি ঢোকে তার বাচ্চাটাকে নিয়ে। আমার বাচ্চাটার থেকে ওর বাচ্চাটা বছরখানেকের ছোটো। আমি ওকে বলেছিলাম এসে বুকাওস্কির সঙ্গে কথা বলতে যখন আমি ভাস্কর্যটা নিয়ে কাজ করব।
‘এ আমার দিদি, জেরি আর ওর বাচ্চা রনডা’।
‘বোনেরা...’
‘আমরা পাঁচ বোন। লা-রে কাজে আছে এখন। অ্যান আর মার্গি থাকে উটায়’।
জেরি কথা বলে লেখালিখি নিয়ে। ওর প্রচুর পড়াশোনা আছে আর আমার থেকে অনেক ভালো কথা বলতে পারে।  
‘তোমার কিছু ছেপে বেরিয়েছে?’ বুকাওস্কি সোজাসুজি জিজ্ঞাসা করে।
‘না’। সে ‘হাফ এন হাফ’ নিয়ে বলে চলে আর তার উপন্যাসের কথা যেটা সে লিখছে এখন। আমি মাটি নিয়ে তখন ব্যাস্ত তাই খুব একটা মন দিয়ে শুনছিলাম না ওদের কথা। দু ঘন্টার বসে থাকার সময় শেষ হওয়ার পর আমার দিদিকে একটা লম্বা চুমু দিয়ে বুকাওস্কি চলে গেল।
দ্বিতীয় বার বসার সময় আমি আর বুকাওস্কি একাই ছিলাম। কিছুক্ষণ চুপচাপ কাজ করে চললাম। ও কিছুটা রোগা হয়েছে, চুলগুলো বড় হয়ে গেছে। ছবিগুলো আর কোনো কাজে দেবে না। আমি মাটি কমাতে শুরু করলাম ভাস্কর্যটা থেকে। আমি ঠিক করেই নিয়ে ছিলাম যে বুকাওস্কির সাথে আমি শোবো না। আমাদের বাবা মাল খেয়ে প্রচুর জ্বালিয়েছে আর আমি নিশ্চিত ছিলাম যে বুকাওস্কিও মাতাল। আর তাছাড়া ওর বয়স যা তাতে ও আমার বাবা হওয়ার যোগ্য।
‘তুমি কবে আমার বাড়িতে আসবে’? সে জিজ্ঞাসা করে আমাকে।
‘আমি জানি না। ডিভোর্সের পর আমি শপথ করেছি আমি কোনো পুরুষের সাথে সম্পর্ক রাখব না যে তার নারীর সাথে যৌনতা করে না...পুরোটা’।
‘আর কীকরে জানলে আমি তা করি না’?
‘আমি তোমার বই পড়েছি। তোমার মেয়ে চরিত্রগুলো সব করই, কিন্তু চিনাস্কি কিছুই করে না...বুঝতে পারছ...ও কখনো করে না কিছু। তুমি করলে ওটা নিয়ে তুমি লিখতে, তাই না’?
‘সব সময় চলে যায় নি এখনো’।
‘আমি বিবাহিত জীবন কাটিয়েছি দশ বছর। আমার স্বামীর ওটা পছন্দ ছিল না। আমি মনে করিনা ওটা কোনো পুরুষ শেখে পছন্দ করতে’।
‘কিছু কিছু বুড়ো কুত্তা শিখতে পারে নতুন কৌশল’।
‘আমার বোঝা উচিৎ ছিল যখন প্রথম বার আমি আমার আগের স্বামীর অ্যাপার্টমেন্টে যাই, সে তখন তার প্যান পরিষ্কার করছিল ব্রিলো প্যাড আর এলেক্স দিয়ে, সে যে কখনই ফলনায় চুমু খেতে পারঙ্গম হবে না সেটা বোঝা উচিৎ ছিল আমার, বড্ড খুঁতখুঁতে’।
‘আমি আগে কাজ করেছি জমাদারের। মেয়েরা খুব নোংরা হতে পারে...মুত আর রক্ত। ভাবতে পারবে না কীনা আমি পরিষ্কার করেছি ওই নোংরা ফেলার ক্যানেস্তারা থেকে’।
‘তোমার বয়স পঞ্চাশের বেশি। তুমি যদি ওটা করতে চাও তাহলে তো এতদিনে তুমি ওটা করতে শুরু করে দিতে’।
‘কেউ আমাকে করতে বলেনি ওরকম’।
‘কেউ বলেনি? মেয়েদের বলতে হয় না। আমি তো বলি না কিন্তু আমি আর হাঁটি না এক মুখি রাস্তায়। আমি আশা করি একজন পুরুষ আমায় যা করবে যা সে করতে চাইছে নিজের জন্য। আমি একজন পুরুষের সাথে ঘুরি যে ওটা খুব ভালো করে কিন্তু সে ওটুকুই করতে পারে’।
‘মানে তুমি বলছো ওর দাঁড়ায় না’।
‘ও কিন্তু খুব ইন্টারেস্টিং একজন লোক, প্রচুর বিদ্যেবুদ্ধি। ও ওর অফিসের প্রিন্টারে আমাদের ম্যাগাজিনের গত সংখ্যাটা ছেপে দিয়েছিল’।
‘আচ্ছা, তাই বুঝি’।
‘আমার স্বপ্নরা আমাকে বলেছে ওকে ছেড়ে দিতে। ওরা আমকে দেখিয়েছে একটা পাখির বাসায় একটা ডিম যার কোনো খোলা নেই। ডিমটা দপ দপ করছিল। আমাকে বলা হলো ডিমটাকে সাবধানে একটা গাছের বাসায় রেখে আসতে’।
‘এত সোজা তাকে ছেড়ে দেওয়া’?
‘আমি যখন তাকে বললাম আমার এই স্বপ্নের কথা সে স্বীকার করল তার হৃদয় দুর্বল। সে কারণেই সে যৌনতা করতে পারে না। আমিও পুরুষদের মিশিয়ে ফেলতে পছন্দ করি না’।
‘তো তুমি এই লোকটার প্রতি বিশ্বস্ত যে তার বাঁড়া দাঁড় করাতে পারে না কিন্তু তোমাকে চেটে চুষে দেয়’?
‘আজকাল আর যাচ্ছি না তার কাছে, কিন্তু ও ফোন করে আজ রাতে আমার সঙ্গে খেতে যেতে চাইছে। অদ্ভুত ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল ‘দা ব্রিজে’ যেখানে তোমার প্রথম কবিতা পাঠ ছিল’।
‘তুমি চাইছ কিছুটা সময় চলে যাক যাতে  তুমি ওর প্রতি ন্যায্য আচরণ করতে পারো। এটা খুব ভালো জেসচার, যেমন কাউকে কবর দিয়ে লোকে অপেক্ষা করে কিছুটা সময় তারপর অন্যের সাথে শুরু করে দেয় কৌশল সব...১৮৯০’
‘আমি চিরকালই সময় নিয়েছি একজন পুরুষের থেকে আরেকজন পুরুষের কাছে আসার জন্য। আমার স্বামী চলে যাওয়ার পর আমি ছ মাস যাইনি অন্য কারো কাছে। আমি ভেবেছি হয়ত সে ফিরে আসতে চাইবে বাচ্চাদের জন্য। আমি শুরু করার অনেক আগে থেকেই ও ডেট করছিল’।
‘বাবা তুমি যা নীতিপরায়ণ তোমার মা-ও নিশ্চয়ই এরকমই ছিলেন।‘
‘আজ যা কাজ ছিল তা হয়ে গেছে আমার। তুমি কি শুক্রবার আসবে’?
‘আমি তোমায় ফোনে জানাব’।
কদিন বাদে যখন বুকাওস্কি ফোন করল তখন সে মাল খেয়ে পুরো টান্টু। ভাস্কর্যর জন্য ওর বসতে ভালো লাগছে না।
‘আমি তোমাদের ম্যাগাজিন ‘হাফ এন হাফ’-এর জন্য একটা কবিতা পাঠিয়েছি। আশা করি তোমাদের ভালো লাগবে’।
পরের দিন এলো কবিতাটা।

সেই ত্রাতা

পি বোধশক্তি
পি বৈজ্ঞানিক
পি বিপ্লবী
পি ৫২ বছর বয়স
পি যে সাহায্য করে মন খুলে
নারীমুক্তির কাগজ বার করে
পি সেই ভালো ছেলেটা
পি সেই অহং
পি আপেল বাগানের
পি সেই সঠিক চালগুলোর
পি সেই চিন্তাবিদ
পি তার টোস্টে মাখন খায়
পি জিভের আর মাথার
পি যে মেয়ে তোলে কবিতার ঠেক থেকে
পি রেকর্ড করার যন্ত্রের
পি একটা বাড়ি নিয়ে
পি ভালোবাসে
পি মাটি নিয়ে চিন্তা করে
পি একটা অফিস নিয়ে
পি ২টো টেলিফোন নিয়ে
পি যে জানে পি –র আছে একটা ধ্বজভঙ্গ
যৌন অঙ্গ...

(পাঠকদের সুবিধার জন্য বলি যে পি অর্থে পুসি বা ফলনা বা যোনি)

আমি বুঝিনি আমি এতটাও বলেছি পি নিয়ে। এই লেখকটাকে নিয়ে আমাকে সাবধান হতে হবে।
‘হাফ এন হাফ’-এর জন্য পাঠানো (ফেব্রুয়ারি ১৯৭১) বুকাওস্কির কবিতা আমরা রিজেক্ট করেছিলাম।
আমি বুঝতে পারছিলাম না যে আদৌ বুকাওস্কি ফিরে আসবে কিনা যাতে আমি ভাস্কর্যটা শেষ করতে পারি। অনেক দিন পর সে আবার ফোন করল।
‘জানি না আমার কী হয়েছিল। তুমি আমার ভাস্কর্যটা করছিলে। তুমি আমার বাড়ি এসেছিলে আর তোমার সাদর উপস্থিতি আমার ভালো লেগেছিল। তুমি হাসি আর নিজেকে নিয়ে এসেছিলে আর আমি বাঁড়ার অহং নিয়ে বসে আছি। এটা আসলে সেই পুরনো পুরুষ ষাঁড়ের মতো। তুমি যদি তাদের না দিতে পারো তুমি পুরুষই নও। কেমন আছো’?
‘আমি এই সুন্দর ডাউন টাউন বুরব্যাঙ্কে আছি’।
‘একজন ছিল জেন বলে, যার পর এত মেয়ের মধ্যে তুমি হচ্ছ সেই মেয়ে যার প্রকৃতি আমার সেরা মনে হয়েছে। তোমার জন্য আমি অনেক বুড়ো কিন্তু কয়েকটা জিনিস আমি তোমার সাথে চেষ্টা করে দেখতে চাই আর আমি তোমারটা খেতে পারব না কে বললো? কবে আসব আরেকবার বসার জন্য’?
‘ভাস্কর্যটা আর নেই’, আমি বললাম, ‘অর্ধেকটা সিলিঙে আঁটকে আছে যেখানে আমি ছুঁড়েছিলাম সেটাকে আর অর্ধেকটা মেঝেতে পড়ে যেটার উপর পা দিয়ে লাথিয়ে ছিলাম আমি। আমি তো ভেবেছিলাম তুমি আর ফিরেই আসবে না’।
‘আমরা আবার শুরু করতে পারি। আমি কখন আসব? আমি তোমাকে আমার পুরনো কয়েকটা বই দিতে চাই’।
‘তুমি কাল আসতে পারো...একই সময়। ভাস্কর্যটা ছাড়া আর সব ভুলে যাওয়া যাক। ওটাই বেশি জরুরি’।
    
  


Wednesday, October 4, 2017

চার্লস বুকাওস্কি-কে ভালোবেসে, ঘেন্না করে

লিন্ডা কিং মূলত একজন ভাস্কর। তার করা বুকাওস্কির হেড বাস্টটির ফটোগ্রাফ আপনারা দেখে থাকবেন যা পৃথিবী বিখ্যাত। চার্লস বুকাওস্কির সাথে একসাথে কবিতার বইও বেরিয়েছে তার। এই বইটা যখন হাতে পাই তখন আমি হাসপাতালে আমার ক্যান্সার দুষ্ট ডান কিডনির অপারেশান করার জন্য চিত্তির দিয়ে শুয়ে আছি। বই হাতে পেলে আমার যা হয়, মন বিলকুল ভালো হয়ে যায়। নিচের ছবিটা সে সময়ের।                                                                                                                                                          

চার্লস বুকাওস্কিকে নিয়ে অনেক বই আছে কিন্তু কোনোটাই এ বইয়ের মতো নয়। এটা যেন আয়নার অন্য পাশ দিয়ে দেখা। ওদের পাঁচ বছরের প্রেমের ঝোড়ো জীবনের জীবন্ত দলিল। তাই অনেক সময়ই অপরিমার্জিত, কিছু না লুকোবার চেষ্টা করে বলে যাওয়া সেই আবেগের দিনগুলোর কথা, সেই গভীর প্রেম আর প্রেমহীনতার কথা, যা সরাসরি ধাক্কা মারে আমাদের হৃদয়ে কোথাও।                   

                                                



দ্বিতীয় ভাগ     


চার্লস বুকাওস্কির বই পেতে আমাকে অনেকগুলো বইয়ের দোকান ঘুরতে হলো। আমি ‘নোটস অফ এ ডার্টি ওল্ড ম্যান’ আর দুটো কবিতার বই কিনলাম। বইয়ের নামগুলো আমার খুব ভালো লেগেছিল। ‘দা ডেজ রান অ্যাওয়ে লাইক ওয়াইল্ড হর্সেস ওভার দা হিলস’। আমি ভাবছিলাম সেই সময়ের কথা যখন বাবা আমাদের জঙ্গলে নিয়ে গেছিলেন। জংলি ঘোড়াদের আমরা দেখতেও পেয়েছিলাম।
বুকাওস্কির বইগুলো এক অদ্ভুত মানসিক চাপ তৈরি করলো আমার ভেতর। আমি রেগে গেলাম খুব, বিরক্ত হলাম, ঘেন্না করলো আর মনটা খারাপ হয়ে গেল। একটা গল্প পড়তে পড়তে তো আমার কান্না পেয়ে যাচ্ছিল। কে এই লোকটা? এত ভালো লেখক অথচ জীবন সমন্ধে ওর দৃষ্টিভঙ্গি এতটাই অদ্ভুত যে বলার নয়। আমার মনে হয়নি ও মেয়েদের ব্যাপারে কিছু জানে বলে। যৌন বাসনার জটিলতা লেখাগুলোতে নেই। আমি ঘুমোতে পারছিলাম না। সমস্ত বইগুলো পড়েও ঘুমোতে পারছিলাম না। ভাবলাম বুকাওস্কির মতো একটা কবিতা লিখি...

চোখ খুলে জেগে আছি    

আমি তিনটে বই পড়েছি
চার্লস বুকাওস্কির লেখা
ওর কবিতা ঘুম পাড়িয়ে
স্বপ্নের জগতে নিয়ে যায় না
ও তোমায় জাগিয়ে দেয়
আমি তো একটু ল্যাদ
সব সময় ওরকম
জেগে থাকতে পারি না আমি
ও জীবনকে সুন্দর করে তোলে না
আমি যদিও জানতাম সেটাই একজন কবির কাজ
ওটাকে ওর ইতিহাস বলা উচিৎ
বলা উচিৎ জীবন

এখন রাত দুটো।
নিজের শরীর নিয়ে
খেলা শেষ করেছি আমি
চেষ্টা করেছি চার্লস বুকাওস্কিকে নিয়ে
না ভাবতে
ওটা কাজে নাও দিতে পারে
আমি প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম
আচমকা ঘুম চলে গিয়ে দেখি
আমি জেগে আছি চোখ খুলে
বুকাওস্কি হয়ত ছেলেদের সাথেও করবে
নীলি বা ওই পাগলা পিটার
ও হয়ত যেই আসে তাকেই দ্যায়
কতগুলো ফূটো?
ওর ফুটো, মেয়েটার ফুটো, পোঁদের ফূটো,
বেশ্যার ফূটো, ম্যানহোল
ও নিজেকে বলে বুড়ো বাঘ
আর চেঁচায় আমার ভেতরের বাঘটার দিকে তাকিয়ে
আমি রাতে ঘুরে বেড়াই
একটা বাঘের শরীরের ভেতর
কিন্তু শুই কুকুরের সাথে

বুকাওস্কি মারা যাবে
কুত্তার মতো, ফুলটু মাতাল
ওরা ওর ডোরা দেখে চিনতে পারবে
বাবা-ই যথেষ্ট মাতাল ছিল
এই সংসারের জন্য
কারা ভালোবাসবে বুড়ো মাতালদের?
আমি একজনকে ভালবাসতাম যার দাঁড়াত না  
ওরা যৌনতার থেকে মদ বেশি ভালোবাসে
আমি প্রেমে পড়ে যেতে পারতাম
বুকাওস্কির
যখন সে ভালোবাসায় বিশ্বাস করত
জেন-কে আমি হিংসা করি
চোখ খুলে  জেগে আছি – ভোর চারটে

...লিন্ডা কিং

লেখাটা লিখে ভালো লাগল। কোনোরকম নিয়ম বাধা বন্ধকতা ছাড়া কবিতা, বিয়ে ছাড়া জীবন...স্বাধীন লিন্ডা। আমি যা ইচ্ছে তাই বলতে পারি। যা ইচ্ছে করতে পারি। আমি উঠোন পেরিয়ে আমার বড় দিদি জেরি-কে গিয়ে বললাম পিটার আর লেখক চার্লস বুকাওস্কির সঙ্গে কাটানো রাতের কথা।
‘তুই তো ওর একটা ভাস্কর্য করতে পারিস’? সে বললো। ‘ও যদি সত্যিই লসঅ্যাঞ্জেলিসের সেরা কবি হয় ওর একটা ভাস্কর্য হওয়া উচিৎ আর তারপর আমরা দেখা করে কথা বলতে পারি। তুই তো চাইছিলি এমন একজনের ভাস্কর্য করতে যে একজন ইন্টারেস্টিং মানুষ’।  
‘আমার মনে হয়না ও ওটা করতে চাইবে। ও একা একাই থাকতে ভালোবাসে’।
‘আরে চেষ্টা করে তো দেখ। ব্যাপারটা মজার হবে। আমরা না হয় ওকে আমাদের ‘হাফ এন হাফ’-এর এক কপি পাঠিয়ে দেবো’। 
‘হাফ এন হাফ’-এর গল্পটা এরকম। এটা আমাদের পারিবারিক পত্রিকা যেটা ছড়ানো হতো বন্ধুবান্ধব আর আত্মীয় স্বজনের মধ্যে। ভর্তি থাকত প্রবন্ধ, কবিতা, কার্টুন আর কলাম লেখায়। জেরি আট বছর বয়স থেকে লিখছে আর ও চাইত আমরা বোনেরা সব্বাই লিখি। প্রতিমাসে সম্পাদনা করবে আলাদা আলাদা ব্যক্তি আর সে দায়িত্ব নেবে লেখাপত্র বাছাই করার, ঠিক করবে কী থিম হবে পত্রিকার আর ‘হাফ এন হাফ’ প্রকাশের।
‘ওকে একটা কবিতা লিখে পাঠা। রোজ রোজ তো আর দেখা হয়না একজন লেখকের সাথে’।
‘আমার কবিতা ওর একদম পছন্দ হয়নি। আমি তো বললাম তোমায় কী ঘটেছিল। আর তাছাড়া আমার জন্য ও খুব বয়স্ক, তোমার জন্যে হয়ত ঠিক ছিল’। জেরি আমার থেকে আট বছরের বড়।
কবিতার জন্য অপমানিত হওয়ার কথা মাথায় না রেখে আমি বুকাওস্কিকে একটা চিঠি লিখে জানতে চাইলাম সে তার হেড বাস্ট করতে রাজী কিনা?
কয়েকদিনের ভেতরেই জবাব পেলাম টেলিফোন নাম্বার সমেত।
আমি ফোন করলাম।
‘হ্যালো, আমি লিন্ডা কিং বলছি। কখন আসতে পারি তোমার কতগুলো ছবি তুলতে যাতে তোমার ভাস্কর্যটা শুরু করা যায়’?
‘আগামীকাল’।
‘আগামীকাল’, ব্যাপারটার দ্রুতি দেখে আমি একটু ঘাবড়ে গেলাম।
‘ঠিক আছে, আগামীকাল তবে সকাল ১১টায়’?
‘রাত এগারোটা’।
‘ছবি তোলার জন্য আমার দিনের আলো দরকার।‘
‘তাহলে দুপুরে করো’, বলে সে ফোনটা রেখে দিলো। আমি ছুটে গিয়ে আমার দিদিকে খবরটা জানালাম।
বুকাওস্কির বাড়ি পৌঁছলাম দুপুর দুটো নাগাদ। সে দরজা খুললো না। ভাবছি ফিরে যাব এমন সময় জানালার পর্দার ফাঁক থেকে উঁকি মারলো সে।
‘মোরোনা’, সে বললো।
‘আমি ভাস্কর্যটার জন্য ছবি তুলতে এসেছি’।
‘ছবি’? মনে হলো ভুলে গেছে সব।
‘ভাস্কর্যটার জন্য, মনে আছে? আমি তোমাকে একটা চিঠি লিখেছিলাম, আমাদের ফোনেও কথা হয়েছে’।
‘একটা মিনিট দাঁড়াও’।
আমি শুনতে পাচ্ছিলাম বাথরুমে ও বমি করছে।
‘তোমার শরীরটা যখন ভালো থাকবে তখন ফিরে আসব কি’? আমি চিৎকার করে বললাম।
‘না না, আমি সামলে নেব। কয়েক মিনিটেই ফিট হয়ে যাব আমি। এসো, ভেতরে চলে এসো’।
আমি ঢুকে দেখলাম কফি টেবিলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে নানান স্কেচ, বিয়ার   ক্যান, কাগজ, রঙ  আর তুঞ্জু করে রাখা জিনিসপত্র   সব জায়গায়। আমার হাতে একটা  কমলালেবু ছিল। সেটা নিয়ে লোফালুফি করতে লাগলাম নার্ভাস হয়ে। অবশেষে একটা পুরনো বাথ রোব গায়ে চাপিয়ে সে বেরিয়ে এলো।
‘এই তো মোরোনা। তোমাকে আমার মনে আছে’।
আমি হাত বাড়ালাম ওর দিকে।
‘আমি এখানে পিটারের সাথে এসেছিলাম। আমি একজন অভিনেত্রীও। আমার নাট্যকার দিদি তার নতুন নাটকে আমাকে একটা রোল দিয়েছে’।
‘ও আচ্ছা। তোমাকে একটা বিয়ার এনে দেবো’?
‘নিশ্চয়ই’, দুজনের জন্য দুটো বিয়ার আসে।
‘দাঁড়াও আমি প্যান্ট পরেনি। চলে যেও না যেন।‘
যখন সে ফিরে এলো আমি তার মুখের দিকে তাকালাম। মুখটা লাল মাল খেয়ে খেয়ে ফুলে গেছে। পেটটাও ফুলে আছে। এই প্রজেক্টটা করা কি ঠিক হচ্ছে আমার? আমি লজ্জা পেলাম। লোফালুফি করতে লাগলাম কমলালেবুটা।
‘তুমি কীভাবে আমাকে চাও’?
‘আমি বরং কয়েকদিন পরে আসি। ছবিতে তোমাকে সব থেকে খারাপ লাগুক, আমি চাই না’।
‘না না, তোলো। একই হবে যখনই ছবি তুলবে তুমি’। ঢক ঢক করে বিয়ার খায় বুকাওস্কি।
‘আমি ভাস্কর্যটা এখনই শুরু করে দিতে পারি’।
‘ওটা কি ক্রিসমাসের ছুটির পর শুরু করা সম্ভব যখন এই পাগলে যাওয়া সময়টা থাকবে না। যখন পৃথিবী ফিরে যাবে ফের তার সাধারণ হত্যার খেলায়?’
আমি আমার পোলারয়েড ক্যামেরাটা বার করি।
‘ওই সাদা দেওয়ালটার সামনে দাঁড়াও। আমার মনে হয় সেটাই সঠিক হবে’। আমি ছবি তুলতে শুরু করি।
‘প্রতিটা কোণ থেকে আমার ছবি চাই। তুমি আসার আগে আমি কাজটা শুরু করে দ্দিতে চাই। এই ভাস্কর্যটা আমি আমার বাড়িতে বানাব। তাতে কি তোমার কোনো অসুবিধে আছে’?
‘না, মাঝে মাঝে এই ইঁদুরের গর্ত থেকে বেরোতে আমার ভালোই লাগে’।
আমি বিয়ারটা শেষ করে একটা ছোট্ট ম্যাপ আঁকি। কীভাবে ও আমার বাড়ি যাবে তার হালহদিশ।
‘আমি ছুটির পর তোমাকে ফোন করবো। আমার দুটো বাচ্চা আছে। আমিও ব্যাস্ত থাকব ক্রিসমাসের কেনাকাটায়’।
‘তুমি কি আরেকটা বিয়ার খাবে’?
‘না, তবে তোমার বাথরুমে  একবার যাব’।
ছবিগুলো আজ যতটা ভালো হওয়া উচিৎ ততটাই হয়েছে। দিনের আলো ওকে দেখতে ভালো করে দেয়নি। সে রাতে আমি কবিতা লিখলাম।

নোংরা  

ওর বাথরুমটা একটা কোলাজ
মাসের পর মাস জমে থাকা পুরনো ব্লেড
আর ব্লেডের খোল পড়ে আছে শৈল্পিক ছত্রভঙ্গে
আঁটকে আছে ঝুলকালি আর নোংরায়
জমিয়ে বসে আছে নিরুপদ্রবে
বেসিনে, বাথটাবে আর টয়লেটে
একটা রবারের হাঁস এক কোণে
একটা পা ঘষার পাথর 
অদ্ভুত সব কবিতার বই আর পত্রিকা
আর একটা লাল এনেমা ব্যাগ ঝুলছে
বেঁকা শাওয়ার পাইপ থেকে

একটা এনেমা ব্যাগ? ওর নিশ্চয়ই কোস্টবদ্ধতা আছে
দাঁড়ি কামানোর যন্ত্র আর টুথব্রাশ ব্যবহার হয়
আর বাথটাব আর টয়লেট
যা বলে ওই পায় চলার দাগগুলো
যা আঁকা আছে নোংরা মেঝেতে

এ লোকটা সত্যি পারে 
এভাবে নোংরার প্রতি নিরাসক্তি
তো দারুণ ব্যাপার
একজন মেয়ে যদি তার ঘর
এভাবে রাখে তাকে লোকে শুয়োর বলবে
আর তার বাড়িটাকে শুয়োরের খোঁয়াড়

আর আমার বন্ধু হেলগা
‘উঃ লিন্ডা কী নোংরা গো
কীভাবে তুমি থাকো এখানে?
আমার জানা মেয়েদের ভেতর
তুমি সব থেকে বেশি অপরিষ্কার’।

‘এর জন্য সাহস দরকার হয় হেলগা,
তুমি এটা করতে পারবে না।
আমি আমার পা উঁচু করে তুলি
আমার পায়ের ভাঁজ তাতে আরো সুন্দর দেখায়’।

‘তোমার বর তোমাদের বিয়েটা
টেকাতে পারত’, সে বলে ‘যদি
একটা কাজের মেয়ে জোটাত সে
আর তোমাকে ছেড়ে দিত
লিখতে আর ভাস্কর্য গড়তে’।

‘না হেলগা, আমার চাই
একটা নোংরা লোক’।

বসে বসে ভাবি আমি
এইকি সেই নোংরা লোক?
ও নোংরা গল্প লেখে আর নোংরা বই লেখে
ওর মনটাও নোংরা আর বাড়িটাও নোংরা।
এতটাও সত্যি হতে পারে না
কোথাও একটা গণ্ডগোল আছে 
আমি টয়লেট ফ্ল্যাশ করি
আর বাইরে বেরিয়ে আসি।  

ওর হয়ত একটা মেয়ে চাই যে এই নোংরা পরিষ্কার করবে। 

Saturday, September 30, 2017

চার্লস বুকাওস্কি-কে ভালোবেসে, ঘেন্না করে

চার্লস বুকাওস্কিকে নিয়ে বই আছে অনেক কিন্তু  কোনোটাই লিন্ডা কিং-এর এ বইয়ের মতো নয়। এটা যেন আয়নার অন্য পাশ দিয়ে দেখা। ওদের পাঁচ বছরের প্রেমের ঝোড়ো জীবনের জীবন্ত দলিল। তাই অনেক সময়ই অপরিমার্জিত, কিছু না লুকোবার চেষ্টা করে বলে যাওয়া সেই আবেগের দিনগুলোর কথা, সেই গভীর প্রেম আর প্রেমহীনতার কথা, যা সরাসরি ধাক্কা মারে আমাদের হৃদয়ে কোথাও।


                                                             



প্রথম ভাগ


সে রাতটা ছিলো ১৯৭০-এর জুলাই মাসের দ্বিতীয় দিন। ‘দা ব্রিজ’-এর বাইরে আমি আমার মেরুন গাড়িতে পিঙ্ক ডট লাগাচ্ছিলাম। আঠা লাগানো এই পোলকা ডটগুলো যেন চিৎকার করে বলছিল দশ বছর বিয়ের পর আমার স্বাধীনতার কথা। আমি বাড়ি ফিরছিলাম বোল্ডার, উটায়। ৪ঠা জুলাইয়ের জন্য, রাস্তায় নেমে পড়তে মন উচাটন হয়ে উঠছিল। ওটা আমাদের ফ্যামিলির পরম্পরা। ওই দিন সবাই এক সাথে হই আমরা। ধৈর্য থাকছিল না কিন্তু চার্লস বুকাওস্কির লসঅ্যাঞ্জিলিসের এই কবিতা পাঠও মিস করতে চাইছিলাম না একটুও।
আমি অনেক আগে এসে গেছি। এই ‘দা ব্রিজ’ ছিলো একটা বইয়ের দোকান, ভাঙা সোফা আর চেয়ার আর কিছু পুরোন তোশক আর দু একটা ভেঙে পড়া টেবিলে ভর্তি। দেওয়ালগুলোয় উজ্জ্বল রঙে রাঙানো সব পেন্টিং। ফুল, পাখি, জন্তু জানোয়ার আর মানুষ। শীতের সময় আমি গিয়ে দেখেছি সেখানে পিটার দেওয়াল থেকে বেরনো একটা গ্যাসের পাইপের মুখে আগুন জ্বেলেছে যাতে ভেতরটা গরম থেকে। আর আমি সারাক্ষণ ভেবেছি কখন অঘটনটা ঘটবে, পুরো ঘরটা উড়ে যাবে আমাদের নিয়ে।
কদিন আগেই আমার দেখা হয়েছে সিলভার পাস্তেরনাকের সঙ্গে যার সঙ্গে ইদানীং আমি ডেটিং করছি ‘দা ব্রিজ’-এ। ও বেশ ইন্টারেস্টিং একজন মানুষ। ওর সাইকোলজি আর ইকনমিক্সে ডিগ্রী আছে এখন ও পড়ছে বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে।
এ রাতের শ্রোতারা দেখি সব বাওয়ালবাজ। হাতে ছ প্যাকের বিয়ার আর ওয়াইনের বোতল। কয়েক জোড়া নারীপুরুষ তো খোলাখুলি গাঁজা টানছে। আর তার মিস্টি গন্ধে ভরে যাচ্ছে ঘরটা। আমি কান পেতে শুনছি আশেপাশে কী  বলাবলি করছে লোকজন।
‘ওতো একেবারেই একটা পেঁচো মাতাল। জানিনা কীভাবে ও লেখে আদৌ...’
‘খানকির ছেলেটার কথাবার্তা খুব বিশ্রী’।                 
‘আরে আমি তো শুনেছি ওর আগের বৌকে ও হেভি পিটিয়েছে, যে ওর মেয়ের জন্ম দিয়েছিল। সেই মেয়েটাকে’।
বুকাওস্কি অনেক দেরিতে এলো, একটু যেন নার্ভাস। একটার পর একটা বিয়ার ঢক ঢক করে গিলছিলএকেকটা বোতল এমন ভাবে খুলছিল যেন ওটা প্রপ, ঠেকনো দেওয়ার জন্যতারপর শুরু করলো কবিতা পড়তে। কবিতাগুলো খুব ঠিকঠাক বাছাই করা, তবে বিভিন্ন বই থেকে।  কবিতাগুলো ছিলো মাটির কাছাকাছি, সোজাসাপ্টা, দুষ্টুমি আর মজায় ভরা। ও পড়া শেষ করল একটা গল্প দিয়ে। গল্পটার নাম ছিল ‘ছ ইঞ্চি’। এটা একটা মেয়ের গল্প যে তার পেমিককে ছ ইঞ্চি বানিয়ে দিয়েছিল। আর আরাম পেতে তাকে ব্যবহার করতো ডিলডোর মতো। আমার মনে হয়েছিল এটা বেশ অপমানজনক উৎকট পুং মানসিকতার দৃষ্টিতে একটা মেয়েকে দেখা কিন্তু লেখাটা ছিল মজার। ওর সাহসী কথাবার্তা আমাকে আকর্ষিত করেছিল।
কবিতা পাঠের পর আমি তার কাছে উঠে গিয়ে বললাম, ‘তুমি মেয়েদের খুব একটা পছন্দ করোনা, তাই না’?
‘একদম তা নয়। আমি ভালোবাসি মেয়েদের’।
ওকে ঘিরে ছিল সই শিকারির দল। ও ওর বিয়ার ধরা হাত উপরে তুলে চেঁচালো, ‘এসো মাতাল হই। পার্টিটা হবে আমার বাড়িতে’।
আমি ভেবেছিলাম চার্লস বুকাওস্কির সাথে ওই হবে আমার শেষ দেখা। লোকটা মাতাল, উৎকট পুং মানসিকতার সাথে আছে লোককে গালাগালি করার অভ্যেস, কিন্তু লোকটা তবুও আকর্ষণ-পূর্ণ। ও এত মজার আর সাহসী আর ও একজন লেখকও তো বটে।
বুকাওস্কির কবিতা পাঠের কয়েক সপ্তাহ পরে আমি ‘দা ব্রিজে’ গিয়ে থামলাম এক রাতে। এটা দেখতে কী চলছে সেখানে। মিউজিকের জ্যাম সেশান চলছিল। কিন্তু খুব খারাপ। আমি ছটফট করছিলাম। মনে হচ্ছিল ওই লোকটা যে বাঁশি বাজাচ্ছে থামবে না কোনোদিন। আমি পা টিপে টিপে চলে গেলাম বইয়ের দোকানে।
‘কোথাও কিছু ঘটছে?’ আমি পিটারকে জিজ্ঞাসা করি, ‘আজ রাতে ভালো লাগছে না এত চুপচাপ থাকতে’
পিটার ফোন ঘোরালো। ‘হ্যাঁ নিশ্চয়ই। আসছি আমরা’। ও আমার দিকে ফিরে বলল, ‘আমি তোমাকে চার্লস বুকাওস্কির কাছে নিয়ে যাব’।
‘ওরে বাবা, না’।
‘হ্যাঁ। আমি বলেছি আমরা আসছি’। পিটার জেদ ধরলো।
এমনিতেই বোর হচ্ছিলাম। দেখাই যাক...
আমি পিটারের সাথে যাব ঠিক করলাম কিন্তু পর মুহূর্তেই ভুলটা বুঝলাম যখন পিটার পাগলের মতো গাড়ি চালাতে শুরু করলো, ক্যাঁচ করে ব্রেক কষল একটা মদের দোকানের সামনে আর তখন গাড়িটা ঘন্টায় ৬০ মাইল বেগে চলছে।
‘ভেতরে ঢুকতে গেলে আমাদের বিয়ার নিয়ে যেতে হবে। ছ প্যাকের বিয়ার ছাড়া ও কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেয় না’ও দৌড়ে মদের দোকানে ঢুকল আর ফিরে এলো দুটো ছ প্যাকের বিয়ার নিয়ে।
‘চলো ফিরে গিয়ে আমার গাড়িটা নিয়ে আসি’, আমি বললাম। ‘তাহলে যখন ইচ্ছে করবে আমি ফিরে যেতে পারবো’।
‘ঠিক আছে’। সারা রাস্তাটা গাড়ির চাকাগুলো ক্যাঁচক্যাঁচ করে চললো। আর সে ট্রাফিকের ফাঁকফোকর গলে ডান দিক বাঁ দিক করতে করতে ‘দা ব্রিজে’ পৌঁছল।
‘আমি এখনই আসছি’ বলে, গেল দোকানে। আমি দেখতে পাচ্ছিলাম সে তর্ক জুড়ে দিয়েছে গায়ক বনি হোয়াইটের সঙ্গে। বুঝলাম মেয়েটি তার প্রেমিকা। সে ফিরে এলো ক্যাশ বাক্স হাতে নিয়ে। আমি কি পাগলে যাচ্ছি। আমি পিটারকে চিনিওনা ঠিক করে।  চার্লস বুকাওস্কিকেও চিনি না আমি আর এখন বনি হোয়াইট ভাবছে তার প্রেমিককে নিয়ে আমি চলে যাচ্ছি, কিন্তু আমি ওর পেছনে পেছনে গাড়ি চালিয়ে ট্রাফিকের মধ্যে দিয়ে পৌঁছলাম বুকাওস্কির বাড়ি। ডিলংপ্রি-তে।
দরজা আর জানালাগুলো বড় বড় আগাছায় ঢেকে আছে। বুকাওস্কিকে বেশ বয়স্ক লাগছে...খুব বুড়ো, মোটা...বেশ মোটা আর ফুলটু মাতাল।
‘এ হচ্ছে...’ পিটার আমার নাম জানত না।
‘মোরোনা’ আমি বুকাওস্কির দিকে হাত বাড়িয়ে ধরলাম।
‘মোরোনা’ ওরা দুজনে এক সঙ্গে বললো
‘তোমার আসল নামটা কী’? বুকাওস্কি জিজ্ঞাসা করলো।
‘ওটাই। আমার বাবা মা ওই নামটাই রেখেছে’।
‘ঠিক আছে মোরোনা, বোসো,  বোসো’, বলে আমার দিকে এমন ভাবে তাকাল যেন আমার চোখ, কান, আত্মা কিছুই নেই। পিটার হাত বাড়িয়ে বিয়ারগুলো দিতে শুরু করলো।
‘ভদ্রমহিলা একটু ছটফট করছিল’, জানালো পিটার। 
‘তো তুমি কবিতা লেখো’? বুকাওস্কি জিজ্ঞাসা করলো। পিটার আর বুকাওস্কি একবার চাওয়াচায়ি করলো একে অপরের দিকে।
হ্যাঁ লিখি। একটা লেখা মুখস্থ করেছি যদি ‘দা ব্রিজ’-এর খোলা কবিতা পাঠের আসরে পড়তে পারি, তাই’।
‘মুখস্থ করেছ’? বুকাওস্কি আরেকবার তাকায় পিটারের দিকে।
আমার বেশ কয়েকটা বিয়ার খাওয়া হয়ে গিয়েছিল।
‘শোনাবো’?
ও তাকাল আমার দিকে –
আমি পড়তে শুরু করলাম –

কীভাবে দেখব তাতেই সবটা নির্ভর করে

আমি এই গল্পটা বলছি যাতে সবাই বোঝে
পাগলে যাওয়াটা কীভাবে একটা গুণও হতে পারে
কেউ কেউ বলে ওটা একটা কালো সাপের গর্ত
কিন্তু আমি বলি, কীভাবে দেখব তাতেই সবটা নির্ভর করে।

পিটার লাফিয়ে আমার সামনে এসে চেঁচাতে থাকে, ‘চার্লস বুকাওস্কির সামনে এসব নয়’।
‘কেন নয়...? আমার কবিতা শুনলে ও আমাকে ঠিক টের পাবে’। আমি লাফিয়ে ওর পুরনো কফি টেবিলের উপর উঠে আমার কবিতার পাগলি মেয়েটির চরিত্রের অভিনয় শুরু করলাম।

এই শব্দগুলো সেই মেয়েটির
আর এখন আমার থাকতে ভালো লাগছে এই বুকওয়ালা পেনের ভেতর
এটা খুব ভালো জায়গা হতো যদি না ডাক্তারটা থাকত
যে শুধু এসে তোমায় ইলেকট্রিক শক দিতে চায়

বুকাওস্কি হাত বাড়িয়ে ওর সিম্ফনি মিউজিকটা তেড়ে চালিয়ে দিলো। আমি আমার অভিনয় চালিয়ে গেলাম। পিটার আমায় জড়িয়ে ধরে আমার মুখ চাপা দিতে চেষ্টা করছিল, আমার বুক টিপছিল আর চিৎকার করে খিস্তি করছিল। আমি নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে অভিনয় চালিয়ে গেলাম এই হট্টগোলের ভেতর।

আমি এখন বাইরে কিন্তু সবাই ঠিকই চেনে আমায়
কেউ কেউ লুকোবে এটা ভেবে যে এ বড় লজ্জার
কিন্তু আমি, আমি শুধু বলি ধোর বাঁড়াটা
কীভাবে দেখব তাতেই সবটা নির্ভর করে।

পিটার লাফাতে শুরু করলো। ‘চলো নাচি। চলো লাগাই’। পিটার চেপে ধরেছে আমায়। বুকাওস্কি আমার পায়ে হাত বুলোচ্ছে। যাক কবিতাটা পড়ে শেষ করা গেল।

ফোনটা বেজে উঠল তখনই। পিটারের বান্ধবী তেড়ে চেল্লাচ্ছে। পিটার ফোনটা আমাদের দিকে ঘুরিয়ে ধরলো যাতে আমারা শুনতে পাই।
‘আমাকে যেতে হবে এখন পয়সাটা ফেরত নিয়ে’, পিটার রেখে দিলো ফোনটা। ‘আগে আমাকে চুমু খাও’। ও জবরদস্তি একটা চুমু খেলো আমায় আর আমি ঠেলে সরালাম ওকে। ‘এসো আমরা দুজনে মিলে ওকে লাগাই’, বুকাওস্কিকে ও বললো
‘আমিও যাবো’, আমি দ্রুত বললাম।
‘না তুমি যাবে না। তুমি হ্যাঙ্কের সাথে থাকবে এখানে’। পিটার আমাকে ধাক্কা দিয়ে আমাকে সোফার উপর বুকাওস্কির কোলে ঠেলে দিলো। আর দৌড়ে বেরিয়ে গেল। ফের ফিরে এসে দরজা খুলে বুকাওস্কিকে বললো, ‘আর বোলো না যে আমি তোমাকে কখনো কিছু দিই না’।

হঠাৎ সবকিছু বড় চুপ মেরে গেল। আমি তাকালাম বুকাওস্কির দিকে। সেও তাকাল আমার দিকে। আর আমি জানতাম ওর সাথে আমার কিছু হওয়ার নয়। সেও জানতো আমার সাথে ওর কিছু হওয়ার নয়। আমাদের নাকে নাক ঠেকে আছে প্রায়। আমি একটা ছোট্টো চুমু দিলাম...সত্যিকারের চুমু নয়, জাস্ট একটূ ছোঁয়া। ও কিছুই চেষ্টা করছে না। হুমমম...আরো দু একটা ছোঁয়া, খুব আস্তে।

‘তুমি আমাকে খেপাচ্ছ’।
‘হ্যাঁ, খেপাচ্ছি তো’।

ও আমার দিকে এগিয়ে এলো কিন্তু আমি সরে গেলাম। ‘এবার ছোটো মিস মাফেটকে যেতে হবে’।
‘দাঁড়াও। আরেকটু থাকো’, ও বললো।
আমি সরে এসে উঠে দাঁড়ালাম। সেও উঠে দাঁড়ালো। আমাদের ঠোঁট আরেকবার ছুঁয়ে গেল। আমি বাইরে বেরিয়ে এলাম।