Monday, September 25, 2023

 সোমব্রেরো ফল আউট


রিচার্ড ব্রটিগান


বিদ্যুৎ

 

কিছু মানুষের কাছে এ পৃথিবীর সেরা দৃশ্য হলো একটা ঘুমন্ত জাপানি মেয়ে। কালো লিলির মতো ভেসে থাকা তার পাশে তার কালো চুল তাদের মরে যাওয়ার ইচ্ছে জাগায় আর তারপর তারা দ্বীপান্তরিত হতে চায় সেই স্বর্গে যেখানে চারিদিকে শুধু ঘুমন্ত জাপানি মেয়ে যারা কখনো ঘুম থেকে জেগে ওঠে না, সারাক্ষণ ঘুমিয়ে থাকে আর সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন দেখে।

ইউকিকো খুব সহজেই এই স্বর্গের  রাণী হতে পারে আর এক দিগন্ত ্থেকে অন্য দিগন্তে প্রসারিত কয়েক লক্ষ ঘুমন্ত জাপানি মেয়েদের উপর তার শাষণ চালিয়ে যেতে পারে রাণীর মহিমায়।

আজ সন্ধ্যায় সানফ্রানসিস্কোর কমনওয়েলথ স্ট্রিটে সে নিজের ঘুমের রাণী। কেল্লার ভেতরের টিকটিক করে চলা ঘড়ির মতো তার শ্বাস-প্রশ্বাস বইছে ধীরে। অচঞ্চল।

সে একটা বিলাসী স্বপ্ন দেখছে কিয়োটো নিয়ে। শরৎ কালের বৃষ্টি পড়ছে তার স্বপ্নে। বৃষ্টিটা কুয়াসা আর বড় বড় ফোঁটার মাঝামাঝি কিছু একটা। সে ইচ্ছে করেই ছাতাটা বাড়িতে ফেলে এসেছে। সে বৃষ্টির ছোঁয়া চাইছিল। সে অল্প ভিজতে চাইছিল আর সেটাই ঘটছিল বলে তার ভালো লাগছিল খুব।

কেউ যদি নিঃশ্বব্দে তার ঘুমন্ত শরীরের উপর ঝুঁকে পড়ে যতক্ষণ না সে তার খুব কাছাকাচি আসছে, তখন সে একটা মেয়েলি মোলায়েম ভেজা ভেজা গন্ধ পাবে যা ভেসে আসছে তার শরীর থেকে যা স্বপ্ন দেখছে কিয়োটোতে বৃষ্টির ভেতর হেঁটে যাওয়ার। তখন হয়ত লোভ হবে তার চুল ছুঁয়ে দেখতে বৃষ্টির ছোটো ছোটো ফোঁটারা সেখানে আছে কিনা বন্ধু হয়ে বৈদ্যুতিক হীরক খণ্ডের মতো।


Sunday, September 24, 2023

 সোমব্রেরো ফল আউট


রিচার্ড ব্রটিগান


উদ্ঘাটন

 

আজ, দু বছর পর ছেলেটি একটা গোটা সন্ধ্যে তার জীবন থেকে চলে যাওয়া মেয়েটির  জন্য কষ্টে কাটিয়েছে। তার কষ্ট এতটাই তীব্র ছিল  যে ঘ্ন্টার পর ঘন্টা সেটার ভিতর দিয়ে যেতে যেতে তার খুব খিদে পেয়ে গেল। কিছু একটা খাওয়া দরকার। সে ভাবল রাস্তার কোণায় যে হ্যাম-বার্গার স্ট্যান্ডটা আছে সেখানে যাবে কিন্তু ভাবনা পালটাল কারণ সে হ্যাম-বার্গার খেতে চাইছিল না। গতকাল সে দুটো খেয়েছে তাই এখন আরেকটা খেতে চাইছিল না। এখন একটা হ্যাম-বার্গার খাওয়া মানে  তা হবে গতকালের হ্যাম-বার্গারগুলোর বড় কাছাকাছি।    

গতকাল হ্যাম-বার্গারগুলো যদি না খেতাম তাহলে এখন একটা হ্যাম-বার্গার খেতে পারতাম, সে ভাবে।

যেভাবেই হোক এটা তার কাছে ছিল একটা উদ্ঘাটন যার গুরুত্ব তার কাছে মনে হলো অপরিসীম। এটা একটা বড় ঝামেলার ব্যাপার। অনেক কিছুই তার জীবনে মাত্রাতিরিক্ত মনে হয় তাদের আসল মাত্রার থেকে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই গতকাল দুটো বার্গার খাওয়ার জন্য সে নিজেকে গালি দিতে শুরু করল।  

আমি কী বোকা, কেন যে ওই বার্গার দুটো খেলাম, সে ভাবে। আমার মাথায় কী ভূত চেপেছিল? আমি কী ভাবছিলাম? এখন আর আমার হ্যাম-বার্গার চাই না। আমি যদি ঐ হ্যাম-বার্গারগুলো না খেতাম তাহলে এখন একটা খেতে পারতাম।

ধোর!


Saturday, September 23, 2023

 সোমব্রেরো ফল আউট


রিচার্ড ব্রটিগান


জামাকাপড়

 

তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর তারা জামাকাপড় খুলে বিছানায় চলে গেল। তারা একটা অদৃশ্য সংকেত মেনে জামাকাপড় খুলেছিল। কিছুই না বলে, কোনো ঈঙ্গিত না করেই। তাদের ভেতর একটা কিছু ঘটেছিল আর তাই তারা একই সঙ্গে দুজনেই জামাকাপড়  খুলতে শুরু করেছিল।

একটা চতুর্থ মাত্রিক দেওয়া নেওয়া ঘটেছিল তাদের ভেতর আর তাদের শারীরিক প্রেমের শুরুতে যা চালু হয়েছিল দু বছরের জন্য।

মেয়েটি তার জামাকাপড় খুলে ফেলছিল যেভাবে একটা ঘুড়ি এপ্রিলের উষ্ণ হাওয়ায় আলতো ওড়ে। ছেলেটি অপটু হাতে তার জামাকাপড় খুলছিল যেন একটা ফুটবল ম্যাচ খেলা হচ্ছে নভেম্বরের কাদায়।

ছেলেটি জামাকাপড় খোলায় কখনো তেমন পারদর্শী ছিল না বা জামাকাপড় পরার সময়ও সে ঝামেলায় পড়ত। অনেকের মতো সেও চান করে গা মুছতে পারত না ঠিকভাবে। পুরো গা মোছার পরও তার ৫০ ভাগ গা ভিজে থাকত।

মেয়েটি নিজের জামাকাপড় খুলতে খুলতে ছেলেটির জামাকাপড় খোলা দেখছিল আর ভাবছিল ছেলেটি বিছানাতেও এরকম কিনা, আশা করা যায় তা নয়।

শরীরের এই খেলা মেয়েটার ভালো লাগত আর সে পছন্দ করত সেইভাবে যেভাবে তার ভালো লাগে। যে ছেলেরা বিছানায় খারাপ তাদের সহ্য করার ধৈর্য তার ছিল না।

ছেলেটি ভাগ্যক্রমে বেশির ভাগ সময় বিছানায় খুবই ভালো ছিল। সব সময় সেটা অবাক করত মেয়েদের। এটা ছিল তার একটা সেরা ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য।

মেয়েটির জন্য দুর্ভাগ্যবশত এটি তার জীবনের দুটো বছর নষ্ট করারা কারণ হয়ে উঠল। যাইহোক মেয়েটি সবকিছু চুকেবুকে যাওয়ার পর এরকমই ভেবেছিল। অবশ্যই বহু সময় যখন এই শরীরের খেলা চলছে মেয়েটির তা খবই ভালো লাগত। ভালো সময়গুলো অদৃশ্য হয়ে যেতে লাগল যখন মেয়েটি তা ফিরে বিচার করতে বসল। সে তার জীবনের দুটো বছর ছেলেটিকে ঢেলে দিয়েছে, দিয়েছে তার যৌবন যতটা সে নিজে না চেয়েছে তার থেকে বেশি।

নিজের জামাকাপড় খুলে ফেলার পর মেয়েটি বিছানায় একটা চাদরের তলায় শুয়ে পড়ল। শুয়ে শুয়ে দেখল ছেলেটি্র জামাকাপড়ের শেষটুকু খোলার অপটু চেষ্টা।

আশ্চর্য ব্যাপার ওর বই পড়ে এমন তো মনে হয় না। সে বুঝতে পেরেছিল ছেলেটি তার বইয়ের থেকে অন্যরকম হবে। সে শুধু আশা করেছিল বিছানায় ছেলেটি তুখোড় হবে।

আগেই বলা হয়েছে মেয়েটির জন্য দুর্ভাগ্যবশত ছেলেটি বিছানায় ছিল তুখোড়। 



Friday, September 22, 2023

  সোমব্রেরো ফল আউট


রিচার্ড ব্রটিগান


কালো

 

এখন মনে হচ্ছে সোমব্রেরো নিয়ে বলা ঘটনাগুলোকে একটু থামিয়ে সোমব্রেরোটাকে একটু মন দিয়ে পরীক্ষা করা দরকার।

এখনো অবধি সোমব্রেরো নিয়ে যেটুকু জানা গেছে তা হলোঃ

১) ওটা আকাশ থেকে খসে পড়েছিল।

২) ওটার মাপ ৭ ১/৪।

৩) ওটা খুব ঠাণ্ডা।

আরো কিছু বিষয় সোমব্রেরো নিয়ে যা কাজে লাগতে পারেঃ

৪) সোমব্রেরোটার রঙ কালো (মজার ব্যপার হলো এর আগে এটা নিয়ে কিছুই বলা হয়নি।)

৫) এটা জানা গেছে যে সোমব্রেরোটা খুব ঠাণ্ডা কিন্তু তাপাংক ঠিক কত তা আগে জানানো হয়নি। এখন জানা যাক, সোমব্রেরোর তাপাংক শূন্য তাপাংকের ২৪ ডিগ্রি নীচে।

মানে সোমব্রেরোটা ভালোই ঠাণ্ডা।

বিশেষত যখন রাস্তার তাপাংক ৮১ তখনো সোমব্রেরোর তাপাংক সেই শূন্যের ২৪ ডিগ্রি নীচেই রয়েছে। সূর্য তাকে প্রভাবিত করতে পারছে না।

এবং সেটাই সোমব্রেরোটাকে আলাগ করেছে।

এখনকার মতো এটুকুই যথেষ্ট আর লোক দুটো এখনো কান্না থামায়নি আর ধীরে ধীরে একটা ভিড় জমতে শুরু করেছে আর আপনি জানতেন এটা ঘটবে আগে বা পরে, তো এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে লোকজন তাদের বাড়ি থেকে দোকান থেকে বেরিয়ে পড়েছে রাস্তায় তিনটে লোক আর সোমব্রেরো দেখবে বলে।

গতির একটা পরিবর্তন ঘটছে এখন।  

কিছুক্ষণের মধ্যেই এই পরিচ্ছেদটাকে বলা হবে পুরনো দিনের সেই সময় যখন মানুষ একে অপরকে ভালোবাসত আর পৃথিবীতে শান্তি বিরাজ করত।


Thursday, September 21, 2023

 সোমব্রেরো ফল আউট


রিচার্ড ব্রটিগান


কান্নাকাটি

 

‘আমাদের যুক্তিসম্মত কাজ করা উচিৎ’ মেয়র বলল নীচু স্বরে। ‘এটা নিয়ে আমাদের আলোচনা করা উচিৎ যুক্তিসঙ্গত মানুষের মতো’, মেয়র পৃষ্ঠপোষকের মতো বলল লোক দুটিকে যারা দুজনেই এখন কাঁদতে শুরু করেছে, বিড়বিড় করছে বাচ্চাদের মতো। তারা সমস্ত সংযম হারিয়ে ফেলেছে এটা দেখে যে তাদের সমস্ত উচ্চাশা ভ্যানিস হয়ে যেতে বসেছে। 

‘সবকিছুর পর এটা শুধুই একটা সোমব্রেরো যা আকাশ থেকে খসে পড়েছে’, মেয়র মিষ্টি করে বলে। ‘এটা যে কেউ তুলে আনতে পারে। এটা তুলে আনা কোনো বিরাট ব্যাপার নয়। এখন আমি জানতে চাই তোমরা কান্নাকাটি করছ কেন? তোমাদের মতো শক্তপোক্ত লোক কী কারণে এভাবে কান্নাকাটি শুরু করেছে? আমাকে বলো আমি তোমাদের মেয়র। আমি এই নিয়ে ছ বার মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। আমি তোমাদের সাহায্য করতে পারি। আমিই হয়ত একমাত্র লোক যে পারে। ব্যাপারটা কী আমি শুনতে চাই। কিছু বাদছাদ দিও না। আমাকে সব বলার পর দেখবে তোমাদের অনেক ভালো লাগছে’।

লোকদুটো দাঁড়িয়ে কেঁদেই চলল।

ওরা কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছিল।

হতাশায় তাদের মাথা আর কাজ করছিল না।

তারা নিজেদের ছায়ায় পরিণত হয়েছিল।

মানুষের মাথা কিছুটা নিতে পারে।

তারপর সব শূন্য হয়ে যায়।

‘কথা বলো’, মেয়র বলে। ‘কান্না থামিয়ে আমাকে বলো সমস্যাটা কী? এরকম করছ কেন? আমি জানি সোমব্রেরো তোলা নিয়ে কিছু ঘটেছে কিন্তু তোমাদের বলতে হবে ব্যাপারটা ঠিক কী? আমি মনের কথা পড়তে পারি না’। যখন মেয়র বলল সে মনের কথা পড়তে পারে না তার গলা চড়ে গেল আর স্বরে এলো একটা রাগের প্রকাশ। এতে অবস্থার উন্নতি তো হলোই না বরং লোক দুটোর কান্নার বেগ আরো বেড়ে গেল।

কেঁদে ভাসানো লোক দুটিকে মেয়র চেঁচিয়ে বলল, ‘আমি তোমাদের মেয়র!’


Wednesday, September 20, 2023

  সোমব্রেরো ফল আউট


রিচার্ড ব্রটিগান


শীত

 

হঠাৎ মেয়রের পিসতুত ভাই তার বক্তৃতার তোড়ে ব্রেক কষল, কারণ সে টের পেল যতক্ষণ সে মেয়রের কাছে তার কথার যুক্তিগুলো রাখছিল ততক্ষণ কাজ হারানো লোকটা ইঞ্চি ইঞ্চি করে এগোচ্ছিল সোমব্রেরোটার দিকে।

‘যাচ্ছ কোথায় তুমি?’ সে বলল তার  সোমব্রেরোর প্রতিদ্বন্দ্বীকে। ‘কোথায় বালের যাওয়া হচ্ছে?’  

‘আমার একটা চাকরির দরকার!’ কাজ হারানো লোকটা চেঁচিয়ে বলল। ‘আমি অনন্তকাল ধরে বেরি খেয়ে পেট ভরাতে পারি না! শীত আসছে! আমার একটা হ্যাম-বার্গার চাই!’

‘আমার প্রিয় বন্ধুরা,’ মেয়ের টের পাচ্ছিল ঘটনাটা হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। ‘কী হয়েছে?’

সোমব্রেরোর দিকে দুটো লোকই লম্বা এক পা বাড়িয়েছে আর আরো এক পা বাড়াবার জন্য তৈরি হচ্ছে তখন মেয়র চেঁচাল, ‘থামো’।

তারা দুজনেই থেমে গেল।

মেয়রের জন্য সোমব্রেরোটা আনার কোনো মানে হয় না যদি মেয়র তাদের উপর রেগে যায়। তাহলে সবকিছু নষ্ট হয়ে যাবে। একজন ইউনাইটেড স্টেটসের প্রেসিডেন্ট হতে পারবে না আরেকজন চিরকাল বেকার থেকে যাবে। প্রচুর পরিমাণে বেরি খেতে হবে। এটা জরুরী যে সোমব্রেরো পাওয়ার পর মেয়র যেন খুশি হয়।

দুটো লোকের পা-ই যেন মাটিতে আঁটকে গেছে। তারা আর কোথাও যাচ্ছে না। তারা অপেক্ষা করে আছে এরপর কী ঘটে তার জন্য। মেয়রের হাতের পুতুল তারা।

‘এটা শুধুমাত্র একটা সোমব্রেরো’, মেয়র বলল, মেয়রের গলা এখন অনেক শান্ত আর পৃষ্ঠপোষকের মতো। ‘এটা শুধু একটা সোমব্রেরো’, সে আবার বলল, প্রায় ফিসফিস করে। ‘আমি নিজেই এটা তুলে নিতে পারব’।

পিসতুত ভাইয়ের মুখ দেখে মনে হচ্ছিল তার গালে একটা হাঙ্গর এক চড় মেরেছে।

বিদায় হে প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন।

কাজ হারানো লোকটার চোখে জল ভরে এলো।

বিদায়, চাকরি।


Tuesday, September 19, 2023

  সোমব্রেরো ফল আউট


রিচার্ড ব্রটিগান


অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া

 

দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ বিছানাটা দেখার পর মেয়েটি হাত দিয়ে তার চুল খুলে দেয়। চুলটা আঁটকানো ছিল জাপানে তৈরি একটা সোনালি চুলের কাঁটা দিয়ে। তার গলা লম্বা আর ফর্সা একটা স্ফটিকের নড়াচড়ার মতো মোলায়েম।

আমেরিকান কৌতুক কাহিনী রচয়িতা মেয়েটির চুল খুলে এলিয়ে দেওয়া দেখে।

যখন সে চুলের কাঁটাটা খুলল তার চুল রাত্রির মতো হঠাৎ ঢেকে দিলো তার গলার পেছন দিকটা।

তার লম্বা চুল তার সাদা ইউনিফর্মের কোমরে বাঁধা বেল্ট অবধি গিয়ে পৌঁছল। বেল্টটাও সাদা। তার জামাকাপড় মানিয়ে গেছিল তার ফর্সা রঙের সাথে।

তার শারীরিক অস্তিত্ব যেন রাত্রি আর দিনের মিলন স্থল যেখানে দিন সংখ্যাগরিষ্ঠ আর রাত হলো সংখ্যালঘু যা তার সরু চোখ আর  মাঝরাতের তারাহীন আকাশের মতো চুল।

সে ঘুরে খুব সকালের ঘাসের উপর শিশিরের মতো তার হাত ছেলেটির গালে রেখে তার মুখটা ধীরে ধীরে নামিয়ে আনল যতক্ষণ না তাদের ঠোঁট এসে মিলল একে অপরের সাথে।

তারপর তার হাত মুখ থেকে সরিয়ে সে রাখল ছেলেটির নিতম্বে।

ছেলেটি ভাবল তার হৃদপিণ্ড বুঝি বন্ধ হয়ে যাবে।  

তার মাথায় নিজের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার একটা ছবি ঝলক দিয়ে গেল।

ব্যাপারটা ভালোই হবে।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় সে দেখল একটা কাপড় দিয়ে ঘোমটা দেওয়া একটি সুন্দরী জাপানি মেয়েকে যে কাপড় তার চোখের সঙ্গে মানানসই।  

মেয়েটি তার কফিনের সামনে সামনে হাঁটছে। তাকে কবর দিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মেয়েটি  শবাচ্ছাদনের কাপড় ধরে হাঁটা লোকগুলো আর কফিনের সঙ্গে একই ছন্দে হেঁটে যাচ্ছে। একটা নদীর মতো তার শবযাত্রা বয়ে যাচ্ছে এক অবিনাশিতায়।

একটুও না থেমে।

তারা তার কবর পাশ কাটিয়ে এগিয়ে গেল।

তারা খোঁড়া গর্তটার জন্য দাঁড়ালো না।

তারা এগিয়ে চলল, এগিয়ে যাবে মেয়েটার পিছু পিছু  অনন্তকাল।